সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে নিহত ২, নিখোঁজ ২, ভবানীপুরে শোকের মাতম জামালগঞ্জে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা হবিগঞ্জে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকার নৈতিক দিক থেকে দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে : জামায়াত আমির একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভক্তির চিত্র, ৬ ও ৮ আগস্ট পৃথক সমাবেশের ডাক উড়াল সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য তাহিরপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌপরিবহন ধর্মঘট, ব্যবসায় স্থবিরতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি

দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই রোগী

  • আপলোড সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই রোগী
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী :: দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রুগ্ণদশা কাটছেই না। প্রায় ৩ লাখ মানুষের এই জনপদে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এখন অস্তিত্ব সংকটে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালটি এখন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাদের (স্যাকমো) ওপর ভর করে চলছে। এদিকে হাসপাতাল চত্বর ও ওয়ার্ডগুলোর ভেতরে স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে দুর্গন্ধের কারণে রোগী ও স্বজনদের থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় বৃষ্টির দিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ায়। রাতের বেলা জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পাওয়া নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স সেবা থাকলেও জ্বালানি বা চালক সংকটের অজুহাতে জরুরি মুহূর্তে রোগীরা সেটি ব্যবহার করতে পারেন না। অনুসন্ধানে জানাযায়, ১৯৯৯ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতালটি ২০২৩ সালে কাগজে কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে জনবল কাঠামো ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এখনো ৩১ শয্যারই রয়ে গেছে। ফলে সম্প্রসারিত সেবার বদলে বিদ্যমান সেবাই এখন লাটে উঠেছে। জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও এনেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট নেই। শুধুমাত্র গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। ফলে হাওর ও দুর্গম সীমান্তের গর্ভবতী মায়েদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদেরও ভাগ্যে জোটে না পর্যাপ্ত সেবা; গুরুতর বা সাধারণ - সব রোগীকেই পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার নাম করে ‘রেফার’ কার্ড ধরিয়ে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সালেহীন খান বদলি হওয়ায় হাসপাতালটি অভিভাবক শূন্য ধরা যায়। এছাড়াও হাসপাতালে নার্স ২৫ জন পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১৩ জন, যার মধ্যে ৪ জন আবার শিক্ষা ছুটিতে। সুইপার ৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১ জন। অফিস সহায়ক ৭টি পদের সবগুলোই শূন্য। বাবুর্চি পদটি দীর্ঘদিন শূন্য। এছাড়া মিড-ওয়াইফ ৭ জন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) পদও খালি পড়ে আছে। হাসপাতালটিতে এক্স-রে মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট ও চিকিৎসকের অভাবে সেগুলো বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এনসিডি কর্নারে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ওষুধ বরাদ্দের কারণে রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। সরেজমিন পরিদর্শনে রোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে এসেও প্রায় সব ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডে ডাক্তার না থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ জানান ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে, উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে বর্তমানে ৭৬টি পদই শূন্য রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মতিউর রহমান জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত প্রকট। তবে আগে ডাক্তার সংকট প্রকট ছিল এখন ২৮ জনের মধ্যে ১১ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। তবে কনসালটেন্ট নেই। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের শূন্য পদের তালিকা দিয়ে আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রয়োজনীয় জনবল পেলে আমরা পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে সক্ষম হবো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক